Mukti

ভাষা নিয়ে ভাসা ভাসা ভাবনা ২

Posted in culture, society by jrahman on February 21, 2010

একুশে ফেব্রুয়ারী, বইমেলা চটপটি, হঠাত মনে পরে আমি যে বাঙ্গালী

— ফীডব্যাক, বঙ্গাব্দ ১৪০০।

বছর দুই আগে ভাষা নিয়ে লিখেছিলাম ।  এর মধ্যে আস্তে আস্তে বাংলা লেখা অভ্যাস করছি । ভাবলাম সাহস করে একটা পোস্ট লিখি ।  বানান টানান তো ভুল হয়েছে নিশ্চয়ই, আর আমার কী-বোর্ডে squiggly ত লেখা যাচ্ছে না— পাঠক নিজ গুনে মাফ করে দিবেন আশা করি ।

হালনাগাদ করা (মানে update), ২ মার্চ ০৬৪৮ ঢাকা সময়ঃ লেখার ভাষা, মুখের ভাষা

ভাবনা ১

আমি আমার পিতাকে আব্বু ডাকি ।  আমার বয়সী, মানে মধ্য ৩০, যত বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন চেনাশোনা বাঙ্গালী মুসলিম আছে, মোটামুটি সবাই আব্বা অথবা তারই কোন উতপন্ন শব্দ (বাংলা একাডেমী অভিধানে derivative এর বাংলা এভাবেই দেওয়া) ব্যবহার করে ।  ঈঙ্গ-বঙ্গ কেউ কেউ হয়ত ড্যাড বলে থাকেন, কিন্তু বাবা কথাটা শুনি নাই ।  এই পর্যবেক্ষণ (মানে observation) বোধহয়  খাটে আজকে যাদের বয়স ২০-এর উপর তাদের বেলাতেও ।  কিন্তু ২০-এর নিচে, মানে ১৯৯০-এর পর যাদের জন্ম, তারা কিন্তু দেখি সবাই বাবা ডাকছে ।  শুধু তাই না, অনেকে শ্বশুর সাহেব কে বাবা বলে সম্বোধন করেন ।

ঘটনাটা কি ?

আমরা অনেকেই ভেবে থাকি বাবা হোল খাঁটি বাংলা কথা, আর আব্বাটা একটু পাকিস্তানি (কারো কারো কাছে মুসলমানী) মার্কা ।  আসলে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা নয় ।  বাবা কথাটা তুর্কি, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল প্রচলিত, এবং পাকিস্তানে মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহ কে বলা হয় বাবা-এ-কৌম (মানে জাতির পিতা) ।

ভাবনা ২

গত ২০ বছরে আব্বা গিয়ে বাবা এসেছেন, আর গত ১০ বছরে আপনি গিয়ে এসেছে তুমি ।  একটা সময় ছিল যখন নতুন পরিচিত, অথচ সমবয়সী, কাউকে আপনি ডাকাটাই ছিল চলন । সেই দিন আর নাই ।  দেশে গেলে কারুর সাথে পরিচয় হলে তারাও ডাকে আমায় তুমি, আর আমিও তাদের বলি তুমি ।  অথচ ভাবুন (নাকি ভাবো?) দেখি পুরানো ঢাকাইয়া (এবং কলকাতাইয়া) ছবিতে রাজ্জাক-কবরী (অথবা উত্তম-সুচিত্রা) কত মনোরম (মানে cute) ভাবে আপনি থেকে তুমি তে যেতঃ

নায়কঃ এই যে, তুমি বলে ফেল্লুম ।

নায়িকা (আরক্তিম হয়ে, মানে blushingly): যাহ, দুষ্টু…

এখন যেহেতু সবাই তুমি, এই দৃশ্য আর হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই । ঃ-(

অবশ্য কলকাতায় সবাই তুমি, ছোটবেলা থেকেই তাই দেখে আসছি — ওখানে বোধহয় ফিল্মি কায়দায় প্রেম চলে না ।  আর অনানুষ্ঠানিকতার (মানে informality) জয় সব দেশেই — বিলেতি Economist এর ২০০৯ বড়দিন সংখ্যায় এই নিয়ে একটা জব্বর লেখা আছে (সংযোগ দেওয়া গেল না, পয়সা লাগবে) ।

ভাবনা

বাংলা ব্লগে রাজনীতি নিয়ে লেখা খুব একটা দেখি না ।  যা দেখি তা হোল গালাগালি ।  ৭৬ নাম্বার মন্তব্য (মানে comment) না, লেখার শুরুতেই থাকে অমুকের বাবা-মা অথবা যৌনাঙ্গ নিয়ে কথা ।  আমাকে ভাল ছেলেই বলতে পারেন, কারন আর্ধেক কথার আমি মানেই বুঝি না !

একবার শুনলাম যে গালাগালি নাকি ঢাকায় খুবই স্বাভাবিক ।  যেহেতু ঢাকায় পড়াশোনার সুযোগ হয় নাই, সত্যি মিথ্যা বলতে পারব না ।  প্রিয় বন্ধু সাইদ — নটরডেম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি (মানে product) — কিন্তু এই তত্ত্বটা উড়িয়ে দিল ।

এটা মোটেই ঢাকার ভাষা না ।  এটা হোল ইন্টারনেটের (আমার অভিধান ডিজিটাল আমলের না ঃ-() বেনামীপনার সুযোগ নেওয়া ।  ব্লগাররা যা খুশি বলতে পারে পরিচয় গোপন করে, আর যখন গালাগালি একবার শুরু হয়, তা থামান মুশকিল ।

এই নিয়ে সাইদ কিছু সংযোগ (মানে link) ও পাঠালঃ

http://prothom-aloblog.com/users/comments/66074

http://www.somewhereinblog.net/blog/blogeshwar/28935228

http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28713460

http://www.somewhereinblog.net/blog/pothe_potheblog/28783672

http://www.amarblog.com/posts/1864

http://bnp.amarblog.com/posts/3181

http://probasi.amarblog.com/posts/2607

আমি কিন্তু এখানে গালাগালি মানে গালাগালি-ই বলছি — প্রমিত আর আটপৌড়ের প্যাচাল, যা নিয়ে ২০০৮ এ লিখেছিলাম তা না ।  সাইদ গালাগালি নিয়ে আরো বললোঃ

পোলাপানদের কাছ গালাগালি হয়ত ঠান্ডা (মানে cool) ।  আর বাম্পন্থীদের কাছে গালাগালি বোধহয় সর্বহারার ভাষা । খাকি-জলপাইএর কাছে এইটা হয়ত একরকমের অস্ত্র ।  আরে blogellectual দের কাছে পুরাটাই হোল বাক স্বাধীনতা ।

ভাবনা ৪

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ভাষা কি আলাদা হয়ে যাচ্ছে ?  না আমি সেই জল-পানির কিসসা বলছি না ।  প্রথম আলো ২০০৮ এর ২১শে ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় এই নিয়ে গোলাম মুরশিদ আর সলিমুল্লাহ খানের দুটি লেখা ছাপে ।  দুজনের রাজনীতি দুই ঘরানার, এবং কেউই সাম্প্রদায়িক নন ।  দুজনেই কিন্তু লিখেছিলেন যে ভাষা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ।

প্রথম আলো মহাফেজখানা (মানে archive) ঘেটে লেখা দুটি পাচ্ছি না ।  কেউ কি জানেন কোথায় পাওয়া যাবে এগুলি?

Tagged with:

4 Responses

Subscribe to comments with RSS.

  1. Syeed said, on February 22, 2010 at 5:18 am

    জ্যোতি,
    যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমার দ্বিতীয় উদ্ধৃতির একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

    নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে বন্ধুমহলে গালি বিনিময় যে এক ধরনের অধুনা-আনন্দের উৎস, তা বোধহয় ব্যাখ্যা না করলেও চলবে। তবে, বামপন্থীদ আর ব্লগারদের বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করি। বিষয়টা এমন নয় যে সর্বহারারা গালাগালির ভাষায় কথা বলেন। তথাকথিক বুর্জোয়াদের (যাদেরই কেউ কেউ একসময় বামপন্থী ছিলেন) কর্মকান্ড ব্যাখ্যা করার সময় অধিকাংশ তরুন বামপন্থী বক্তা-লেখকই যেসব উপমা ব্যবহার করেন তা পিতা-মাতার কাজ ও কাম নির্ভর গালাগালিরই ‘শৈল্পিক’ বহি:প্রকাশ মাত্র।

    তবে সমস্যা ব্লগাঁতেল (blogellectual)-দের নিয়েও (ব্লগাঁতেল কিন্তু কোন গালি নয়, যদিও আঁতেল শব্দটি আমরা ব্যবহারজনিত কারনে তা-ই বানিয়ে ফেলেছি)।

    প্রথমত: গালাগালির চর্চা অব্যাহত রাখতে গিয়ে আমাদের যুক্তিবোধ লোপ পাচ্ছে। যেসব ব্লগার মতামত শুরু করেন গালমন্দ করে, তাদের লেখায় অন্যদের মন্তব্যও কিন্তু শেষ হয় গালাগালি দিয়েই। সপ্রতিভ যুক্তি-তর্ক আর সেখানে থাকে না। আমাদের ব্লগীয় প্রতিভা ভাষাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে… বক্তব্যে পৌছাচ্ছে না।

    দ্বিতীয়ত: অন্যকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করা যেমন আমার কর্ম-স্বাধীনতার অংশ নয়, অন্যকে গালাগালিকরে মানষিকভাবে লাঞ্ছিত করাও তেমনি আমার বাক-স্বাধীনতার অংশ নয়… এটা অনেকেই মনে রাখতে চান না।

    তৃতীয়ত: দেশ-কাল-পাত্রভেদে সবযুগেই কিছু মানুষ থাকে যারা হয়তো কটুকথা পছন্দ করেন। তাদের কারো কারো লেখা হয়তো প্রাচীন পুথি বা পল্লীগানে পাওয়া যেতে পারে… কিন্তু তাই বলে সেগুলোকে আমাদের সংস্কৃতির ধারক-বাহক ভেবে গালাগালি-র চর্চা করা নেহায়েত অজ্ঞতা-প্রসূত। আহমদ শরীফের ভাষায়, সংস্কৃতি হচ্ছে সৌন্দর্য বোধ এবং শ্রেয় বোধ।

    চতুর্থত: বাংলা ব্লগ আমাদের চলমান সংস্কৃতির উদাহরন হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্য। আমরা কি চাই আগামী প্রজন্ম দেখুক তাদের পূর্বপুরুষের এহেন (পড়ুন “এ হীন”) ভাষাচর্চা।

    অর্ন্তজালের যুগে ‘তাহাই থাকিবে যা রচিবে তুমি’!

    • jrahman said, on February 22, 2010 at 7:11 am

      সাইদ, বুঝিয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ । তোমার সাথে আমি একমত ।

  2. উদয়ন said, on February 23, 2010 at 9:46 am

    পশ্চীম বাংলা বা বাংলাদেশে কি শুধুমাত্র একটা (বা দুটো) “বাংলা” ভাষা আছে?

    • jrahman said, on February 23, 2010 at 4:42 pm

      মোটেই ভাষাবিদ (মানে linguist) নই, কাজেই তাত্বিক উত্তর দিতে পারব না । কিন্তু তুমি আর আমি তো পারস্পরিক বোধগম্য (মানে mutually intelligible), নাকি?


Comments are closed.

%d bloggers like this: